Sunday, November 4, 2012

তিনশো টাকা, তিন কন্যা, এবং একটি saridon এর আখ্যান

বুঝলেন!
আমার বোন আর আমার সিনেমা দেখার luck তা কিছুতেই click করছে না । প্রতিবার কলকাতা আসি, ভাবি দুজনে একটা ভালো বাংলা সিনেমা দেখব। এই আশায় গতবার বেডরুম দেখেছিলাম, আর সেই একই আশায় এবারেও আমরা তিন কন্যা দেখতে গেলাম। ফল কিন্তু এক! কড়কড়ে তিনশটি টাকা প্রিয়ার ডাস্টবিনে ফেলে দিলেও আমার এত খারপ লাগত না, যা সিনেমাটা দেখে আমার লাগলো। সিনেমা শেষ হওয়ার পরে দেখলাম এক ভদ্রলোক মাথাটা দুহাত দিয়ে চেপে ধরে বসে আছেন। দোষ দিতে পারি না, আমিও তো বাইরে এসে saridon খুঁজেছি!
সিনেমার নাম তিন কন্যা। আমার ডাক্তারদিদি সিনেমা না দেখেই তার স্বভাবসিদ্ধ diagonosis করার ক্ষমতায় আমাকে সাবধান করেছিল যেন আমি রাবীন্দ্রিক তিন কন্যা জাতীয় কিছু আশা না করি। আমি করিনি। কিন্তু সমস্ত সিনেমাটা চলাকালীন আমি আশা করে গেলাম যে বুঝি এবার, বুঝি এবার কোথাও একটা মানে দাড়াবে! যে সিনেমা শুরু হয় মার্চ ২০১২ এর পার্ক স্ট্রিট এ মহিলা ধর্ষন এর পটভূমিকায়, খানিকপর তা পরিনত হয় একটি সন্দেহবাতিকগ্রস্থ মহিলা আর তার রগচটা স্বামীর মধ্যরাত্রের ঝগড়ার গল্পে। আপনি ভাবতে বসলেন এ ছবি বোধয় দাম্পত্য কলহের। খানিক পরে দেখা গেল এ ছবি একটি মারাত্মক glamorous আইপিএস অফিসার এর Halle Berryর catwoman স্টাইল নকলকরা এক মহিলাকে নিয়েও কথা বলতে চাইছে। আপনি ভাবলেন আচ্ছা তাই সই! কিন্তু না, সিনেমাটা কিন্তু সেটা নিয়েও না। তাহলে কি নিয়ে? আরে মশাই বুঝলে তো বলব!
ছবির কোনো গল্প নেই, আচ্ছা না হয় নাইবা থাকলো। অমন গল্পহীন ছবি প্রচুর আছে, অন্তত অভিনয়টা? সেটা তো থাকবে? সারা সিনেমা ধরে ঋতুপর্না সেনগুপ্ত কেন হঠাত হঠাত গান গাইছেন, আর পরিপূর্ণ eye-makeup নিয়ে রাত্রে শুতে যাচ্ছেন,আর কেনই বা তিনি হঠাত ক্রিকেটার রণদেব বসুর সাথে swimming pool এ নেমে গান গাইতে শুরু করলেন আমার সাধারণ বিদ্যায় তার ব্যাখ্যা আমি পেলাম না । কোন চরির্ত্র কেন আছে চিত্রনাট্যে, এর কোনো ব্যাখ্যা নেই।ঋতুপর্ণাকে যিনি আয়ুর্বেদ treatment করেন, তিনি একটা হাফ লাইন dialogue ঠিক করে বলতে পারেন না। আর ঋতুপর্না ২৪ ঘন্টার anchor হয়ে যা ছড়িয়েছেন সে আর কি বলি! অতি নিম্নমানের বাংলা news চ্যানেলের কোনো anchorও ঋতুপর্ণার থেকে ভালো অভিনয় করতেন। She is worse than a B grade hindi movie actress.
অনন্যা চট্টোপাধ্যায় একজন দেহব্যাব্সায়ীর ভুমিকায় অভিনয় করেছেন। তার এই পেশায় আসার কারণ? তার স্বামী মারা গিয়েছেন আর তাই শ্বশুরবাড়ি থেকে তিনি নাকি বিতাড়িত হয়েছিলেন। অনেকেই হন। কিন্তু তারপরেই কি তারা সবাই দেহ ব্যবসায়ে নেমে পড়েন? পৃথিবীতে আর কোনো জীবিকা কি একজন মহিলা আগে চেষ্টা করেন না? আর সর্বহারা একজন দেহব্যাব্সায়ীর অমন ঝাঁ-চকচকে বাড়ি, নিদেনপক্ষে ভাড়া দিলেও তো কম রোজগার হওয়ার কথা নয়!
আজকাল বাংলা সিনেমার একটা চল হয়েছে। কিছু অশ্রাব্য ভাষা চরিত্রদের মুখে বসিয়ে দেওয়া। কালে কালে আমারও কম হলো না, কিন্তু কস্মিনকালে আমি তো এরকম ভাষা না কোনদিন ব্যবহার করেছি, না কাউকে করতে দেখেছি!
সিনেমার শেষে হঠাত ব্রাত্য বসুর আবির্ভাব।তিনি নাকি বহুদিন ধরে ঋতুপর্ণার মানসিক রোগের treatment করছেন! কখন করতেন treatment?একবারও তো তাকে দেখলাম না গোটা সিনেমাটায়? তিনি কিসব schizophrenia নিয়ে জ্ঞান দিয়ে গেলেন। আচ্ছা জ্ঞান দেবেন দিন, তার জন্য পেন্ডুলাম এর মত একবার স্ক্রিন এর এদিক থেকে ওদিক, আর ওদিক থেকে এদিক করার কি দরকার? বাড়িতে একজায়গায় দাড়িয়ে কথা বললে লোকে শোনে না নাকি আজকাল?
মহিলা আইপিএস এর ভুমিকায় উন্নতি। তার জীবনে সর্বাঙ্গীন উন্নতির আশু প্রয়োজন। তিনি না পারেন হিন্দিটা ভালো করে বলতে, না পারেন ঠিক করে রাগ করতে, না পারে ঠিক করে বন্দুক কোমরে গুজতে! আগেই বলেছি তিনি একজন glamorous আইপিএস অফিসার, কিন্তু ঋতুপর্ণা কেমন করে জানি সব সিকিউরিটিদের চোখে ধুলো দিয়ে তার বেডরুমে ঢুকে পড়লেন। ভারতবর্ষের কোন আইপিএস অফিসারএর বাড়ি এত unsafe আমার জানা নেই। তার এবং ঋতুপর্ণার মধ্যে ব্যাপক মারপিট হলো এবং তাতে অবশেষে ঋতুপর্ণা যে আওয়াজ করতে করতে মারা গেলেন (আমরা ভাবলাম), সেটা কোনো মানুষের গলায় মৃত্যুর আওয়াজ হয়না, শাকচুন্নি, বা পেত্নীরা ওরকম ভাবে আওয়াজ করেন বোধয়।
শেষে দেখা গেল ঋতুপর্ণা হলেন একটি schizophrenic মহিলা যিনি, তার স্বামীকে খুন করে বাথরুম এ রেখে দেন আর hallucination দেখেন সারা দুনিয়াকে নিয়ে। তারজন্য পার্ক স্ট্রিট এর রেপ-কান্ড টেনে আনার কি দরকার ছিল, অনন্যা চট্টোপাধ্যায়ের এইডস হবারই বা কি দরকার ছিল, কিছুই বোঝা গেল না।
রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, 'কাদম্বরী মরিয়া প্রমান করিল সে মরে নাই'. এ ছবিতে ঋতুপর্ণা অতগুলো গুলি খেয়েও মরলেন না, lunatic assylum এ গেলেন এবং প্রমান করলেন তাকে মেরে ফেলা  পরিচালকের অসাধ্য। তিনি পাগলাগারদে যাওয়ার আগে আমার যাওয়ার ব্যবস্থ্যা প্রায় করে এনেছিলেন আর কি!
সিনেমা শেষে বাড়ি ফিরব বলে মেট্রো স্টেশন এ দাঁড়িয়ে আছি। এক ভদ্রলোক তার স্ত্রীকে বলছেন, 'এসব ডেঞ্জারাস সিনেমা দেখা উচিত না। কোনদিন দেখব আমাকে murder করে বাথরুম এ পুরে দিয়েছ।'
যেমন খারাপ অভিনয়, তেমন জঘন্য স্ক্রিপ্ট, তেমন খারাপ পরিচালনা। বহুদিন পর এত খারাপ বাংলা সিনেমা দেখলাম।
একমাত্র তবু বলার মত অভিনয় করেছেন রজতাভ এবং অনন্যা।
 
আমার টাকা গেল, সময় গেল, সবচেয়ে বড় কথা মাথাটাও প্রায় গেল. তাই আপনাদেরটা যাতে বেঁচে যায়, সেই চেষ্টায় এই লেখা।
আপনারা ভালো থাকবেন।